Friday, July 3, 2015

ঈদে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে গাউন : কোথায় পাবেন, কেমন দাম, কীভাবে পরবেন?

গাউন পোশাকটিকে অতীতে যদিও পশ্চিমা দেশের পোশাক হিসেবেই ধরা হত, তবে এখন ভারত বা আমাদের দেশের তরুনীদের মাঝেও এই পোশাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই ঈদের পোশাক হিসেবে অনেকে বেছে নিচ্ছেন গাউনকে। আপনি কি এবার ঈদে গাউন পরার কথা ভাবছেন? তাহলে জেনে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। কোথায় পাবেন, কেমন দাম, কোন রকম দীর গড়নে কোন স্টাইলের গাউন মানাবে ইত্যাদি সব কিছু নিয়েই আমাদের এই ফিচার।
কেন এবার গাউন এর এত জনপ্রিয়তা? 
সদ্য শেষ হওয়া কান কান চলচিত্র উৎসবে বিশ্বের নামী দামী অভিনেত্রীদের দেখা গেছে গাউন পরেছেন। আর তাই গাউন নিয়ে একটু বেশি উৎসাহ কাজ করছে সবার মাঝে। তাছাড়া গরমের ভেতর ঈদ হবার কারনে সবাই-ই চাচ্ছেন স্বস্তিকর পোশাক পরতে আর তাতে গাউনের বিকল্প নেই। তাইতো এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে গাউন।
কেমন গড়নে মানাবে কোন কাটের গাউন?
অনেকের ভাবেন গাউন পরলে হয়ত বেশী মোটা লাগবে বা খাটোদের আরো খাটো লাগবে। তাই ইচ্ছে থাকলেও গাউন আর কেনেন না। আসলে কিন্তু কাটছাটে একটু পরিবর্তন আনলে যে কোন গড়নেই বেশ মানাবে গাউন। কোমরের দিকটা ভারী হলে হাফ বডি স্টাইলে বানানো গাউন পরলে দেখতে ভালো লাগবে। তাহলে কোমরের চওড়া ভাবটা চোখে পড়বে না।
উচ্চতা একটু কম হলে একরঙা গাউন গুলো বেছে নিন। লম্বা লাগবে। আর প্রিন্টের গাউন পরলে ছোট ছোট প্রিন্ট খুজে নিন। ভারী গড়ন হলে প্রিন্সেস লাইন স্টাইলে বানানো গাউনগুলো বেছে নিন। একটু লম্বা ও শুকনা দেখাতে সাহায্য করে এটি।
সামনের দিকে একটু ছোট আর পেছনের দিকে একটু বড় দেখতে গাউন পরুন। ভালো মানাবে।
যারা শুকনো বা হ্যাংলা শারীরিক গঠনের তারা উজ্জ্বল রঙের গাউন বেছে নিন। একটু বড় ফুল বা ডিজাইনের গাউনের আপনাকে বেশ মানাবে।
কেমন কাপড়ের গাউন পরবেন? রঙ হবে কেমন?
শিফন জর্জেটের এর কাপড়ে গাউনগুলোই এবার সবচেয়ে বেশি চলছে। দেশীয় ছোয়া আনতে টাই ডাই এর ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জর্জেট, শিফন, সাটিন, নেট, লিনেন বিভিন্ন কাপড় দিয়ে গাউন তৈরি করা হচ্ছে।
অনেক কাপড় কিনে গাউন বানান। তারা একরঙা কাপড়ের গাউনের উপর প্রিন্টের কাপড়ের কটি দিয়ে গাউন বানাতে পারেন। এবার বেশ চলছে এই ডিজাইন।
বৃষ্টি, মেঘযুক্ত আবহাওয়া এসবের কথা চিন্তা করে এবার গাউনগুলোতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারই বেশি চোখে পড়ছে। তবে রাতের পার্টির জন্য কালো, নীল, মেরুন এই রঙগুলোও চলছে।
কেমন হবে গাউনের ডিজাইন?
বিভিন্ন কাটের গাউন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এ লাইন, হেম লাইনে এসে সামনে-পেছনে উঁচু-নিচু ও দুই পাশে ঝুলে গেছে, বডি হাগিং, হাফ বডি স্টাইল, এক ছাঁটের গাউন ইত্যাদি কাট প্রাধান্য পাচ্ছে।
আপনি চাইলে আনারকলি স্টাইলেও গাউন বানাতে পারেন। কিংবা কোমরে ভারী স্টোনের লেস দিয়ে গাউন বানাতে পারেন।
এবার ঈদে কর্দমাক্ত পরিবেশ থাকতে পারে। সেদিক খেয়াল রেখে মাটি পর্যন্ত ছোয়া গাউন গুলোর চেয়ে গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা গাউনগুলোর প্রাধান্য এবার বেশি।
কোথায় পাবেন? কেমন দামে?
দেশের প্রায় সব শপিংমলগুলোতেই আছে বাহারী রঙের, বাহারী ডিজাইনের গাউন। বসুন্ধরা সিটি, চাঁদনী চক, সিমান্ত স্কয়ার সবখানেই পাবেন পছন্দমত গাউন।
তাছাড়া দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, রঙ, কে ক্র্যাফট, ফড়িং এগুলোতো তো আছেই। কাপড় ও ডিজাইন ভেদে এসব গাউনের দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার পর্যন্ত। কাপড় কিনে গাউন বানাতে চাইলে নিউমার্কেট থেকে গজ কাপড় কিনে নিতে পারেন। সাথে পছন্দমত লেস।
তাহলে কিনে ফেলুন পছন্দের গাউন আর ঈদ আনন্দে মেতে উঠুন প্রিয় পোশাকে।

Thursday, July 2, 2015

সন্তান ধারণে সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নারী অবশ্যই করুন এই কাজগুলো

আজকাল সন্তান না হওয়া বা বন্ধ্যা হওয়ার হার আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। দাদী-নানীদের আমলে যেখানে অনেকটা বয়স হয়ে গেলেও সন্তানের মা হওয়ার ব্যাপারটা ছিল, আজকাল দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো। বয়স ৩০ পেরিয়ে গেলেই নারীদের সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। সন্তানহীন দম্পতিদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে হু হু করে। চলুন, আজ জেনে নিই একজন নারী তাঁর উর্বরতা নিশ্চিত করতে ও সন্তান ধারণে সক্ষম থাকতে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন। আগামী পর্বে থাকবে সন্তান ধারণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পুরুষের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত। ১) নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কম বয়সেই সচেতন হতে হবে। নিজেকে জানুন, নিজের শরীর সম্পর্কে জানুন। এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আপনার কোন অসুখ হলেই ডাক্তারের কাছে যাবেন, বিষয়টা যেন এমন না হয়। বরং বিবাহিত-অবিবাহিত প্রত্যেক নারীরই উচিত ২ বছর পর পর স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা নিজের একটি সম্পূর্ণ চেকাপ করানো। এতে অনেক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত অসুখ সম্পর্কেও অগ্রিম জানতে পারবেন। ২) পিরিয়ড সংক্রান্ত যে কোন সমস্যাকে মোটেও অবহেলা করবেন না। পিরিয়ড না হওয়া, অনিয়মিত পিরিয়ড, পিরিয়ডে দেরি হওয়া, পিরিয়ডের সময় প্রচণ্ড ব্যথা বা অন্য যে কোন পিরিয়ড জনিত সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মোটেও লজ্জা পাবেন না বিষয়টি নিয়ে। ৩) নিজের ওজনটা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সুস্থ সন্তান ধারণের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরী। বিশেষ করে যাদের তলপেট ভারী, তাঁরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন ও ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। জরায়ুর আশেপাশে চর্বি জমে গেলে সন্তান ধারণে অসুবিধা হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। ৪) স্বেচ্ছায় গর্ভপাত জিনিসটাকে শতভাগ পরিহার করুন। বিশেষ করে যদি আপনি প্রথমবার গর্ভবতী হয়ে থাকেন, তাহলে অতি অবশ্যই গর্ভপাত করাবেন না। পরবর্তীতে এর বড় মাসুল দিতে হতে পারে। আজকাল অনেক মেয়েই বিয়ের আগে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেন, ফলে দেখা যায় এক বা একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত করাতে। এসব করে কেবল নিজেরই সর্বনাশ ডেকে আনছেন তাঁরা। ৫) আই পিল বা এই ধরণের যত ইমারজেন্সি কন্ত্রাসেপটিভ পিল আছে, এগুলো অবশ্যই পরিহার করুন। যদিও কোম্পানিগুলো দাবী করে যে এগুলো শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু সত্য হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো ব্যবহার করলে পরিণাম সন্তান ধারণে অক্ষমতা। ৬) প্রথম সন্তান নেয়ার আগে জন্মবিরতিকরন পিল ব্যবহার করবেন না। ৭) নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ওজন বাড়ানো কিংবা কমানোর জন্য নয়, কায়িক পরিশ্রম করুন নিজেকে সুস্থ রাখতে। সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু। ৮) ধূমপান বা মদ্যপান, কিংবা যে কোন নেশার অভ্যাস থেকে শত হাত দূরে থাকুন। ৯) খাদ্য তালিকায় রাখুন স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। ডিম, দুধ, হরেক রকম সবজি, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খাবার নারীর উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। সূত্র উইমেন হেলথ, বিউটি মান্ত্রা